
লাইব্রেরী অফ বাবেল: সত্যের খোঁজে এক অনন্ত যাত্রা
জর্জ লুই বোর্গের লেখা 'The Library of Babel' গল্পের মাধ্যমে আমরা সত্যের খোঁজে এক অসীম যাত্রার কথা জানতে পারি। এই লাইব্রেরীতে অসংখ্য বই রয়েছে, যার মধ্যে সত্য এবং তথ্য লুকিয়ে আছে, কিন্তু সেগুলো খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এই গল্প আমাদের বাস্তবতা, তথ্যের প্রাচুর্য এবং জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে।
আমি কেমন করে এই বাবেলের লাইব্রেরীর সন্ধান পেলাম আমি নিজেও জানিনা! মনে নাই আসোলে!আমার শর্ট মেমোরি! ছোটখাটো বিষয় মনে থাকেনা! তাই হরহামেশাই গুগল মামার সাহায্য নিতে হয়! এমনকি আমার কোনো গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটের ঠিকানাও মনে থাকেনা! আর আমার কসমোলজি তে ইন্টারেস্ট থাকায় থিওলজি নিয়েও একটু আধটু ঘাঁটতে হয়! সেইসাথে বিভিন্ন ধর্ম নিয়েও! সম্ভবত প্রাচীন বাবেল (ব্যাবিলন) নিয়ে ঘাঁটতে গিয়েই এই বাবেলের লাইব্রেরী বা লাইব্রেরী অফ বাবেল এর খোঁজ পাই!
The Library of Babel আর্জেন্টাইন এক অন্ধ লেখক জর্জ লুই বোর্গের লেখা একটা গল্প! গল্পটার প্লট সামারিটা একটু বলে নেই! Implications গুলো পরে!
গল্পটা একটা লাইব্রেরী কে নিয়ে! লাইব্রেরীটাতে অসংখ্য ষড়ভুজাকৃতির কামরা আছে! প্রত্যেক কামরায় মানুষের বেঁচে থাকার অপরিহার্য কিছু জিনিসপত্র রাখা একটা দেয়াল, এবং বইয়ের তাকওয়ালা আরও ৪ টা করে দেয়াল আছে! বইগুলোর বিষয়বস্তু এবং অর্ডার অবিন্যস্ত! অর্থহীন সব বই! কিন্তু বইগুলো ২৫ ক্যারাক্টারের (২২ টি বর্ণ, দাঁড়ি, কমা এবং স্পেস) যতোগুলো বিন্যাস সম্ভব তা দিয়ে ভরা! বেশিরভাগ বইই পুরোপুরি অর্থহীন হলেও, লাইব্রেরী তে কোথাও না কোথাও অবশ্যই এ পর্যন্ত যতোগুলো বই লেখা হয়েছে, যতোগুলো বই লেখা হবে এবং যতোগুলো সম্ভব পরিবর্তিত বইয়ের সমাবেশ থাকবে! অর্থাৎ এই লাইব্রেরীতে অবশ্যই যতো ব্যবহারযোগ্য তথ্য আছে তাও পাওয়া যাবে! এমনকি ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত তথ্যও! 😃
কিন্তু সমস্যা হলো জগতের সব তথ্য এই লাইব্রেরীতে থাকা স্বত্বেও সেই তথ্যগুলো উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব! একারণে ওই লাইব্রেরীর লাইব্রেরিয়ানরা আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে ওঠেন! তাদের মধ্যে একদল বইগুলো নষ্ট করতে লেগে যান, আবার আরেক দল আশাবাদী যে যেহেতু লাইব্রেরীতে সকল প্রকার বই আছে, সেহেতু কোথাও না কোথাও হয়তো এমন একটা বই অবশ্যই থাকবে যা সমস্ত বইগুলোর সূচিপত্র হিসেবে লেখা! অর্থাৎ সেই বইটি পেলে সব সত্য বের করা যাবে! 🙂
বলাই বাহুল্য যে বোর্গে অন্ধ ছিলেন! এবং তিনি অসীম এর ধারণা নিয়ে অনেক ভাবতেন! হয়তো তার অন্ধত্ব তাকে ওরকম কিছু ভাবার সুযোগ করে দিয়েছিলো! Blessing in disguise টাইপের! স্টিফেন হকিং ও এরকম বলতেন তার শারীরিক বিকলাঙ্গতা বিষয়ে! আমিও! 😑
ঘরগুলো ষড়ভুজাকৃতির! প্রত্যেক ঘরে ৪ টি করে বইয়ের তাক ওয়ালা দেয়াল, প্রত্যেক দেয়ালে ৫ টি করে শেল্ফ, প্রত্যেক শেল্ফ এ ৩২ টি করে বই, প্রত্যেক বই ৪১০ পৃষ্ঠার! মোট ২৫ টি ক্যারাক্টার দিয়ে এই বইগুলি লেখা! 🙄
এখন আসি এর implications গুলো কি কি তা নিয়ে! আরও কড়াভাবে বলতে গেলে philosophical implications! বৈজ্ঞানিক এবং প্রযুক্তিগত implications পরে আলোচনা করবো!
• লাইব্রেরীটা গঠনগত ভাবে এমন যে তার ক্ষেত্র সসীম হলেও তার সীমানা খুঁজে পাওয়া যায়না! অনেকটা আমাদের মহাবিশ্বের মতো! হ্যাঁ! একদম! উপরে আরেকবার দেখুন, এই লাইব্রেরীতে এপর্যন্ত যতোগুলো বই লেখা হইছে, এবং ভবিষ্যতেও যতোগুলো বই লেখা হবে তার সবই থাকবে! মহাবিশ্বের মতো! যতো ঘটনা ঘটেছে, যতো ঘটনা ঘটবে তার সবই এই মহাবিশ্বেই ঘটবে! কিন্তু এই মহাবিশ্বটা অসীম নয়! সীমানাহীনভাবে সসীম!
• অতঃপর বাস্তবতা বা সত্য! বইগুলোর বেশিরভাগই অর্থহীন! কিন্তু এগুলোর মাঝেই লুকিয়ে আছে সত্য, লুকিয়ে আছে বাস্তবতা! তথ্যের প্রাচুর্যের কারণে সঠিক তথ্য বা সত্য তথ্য পাওয়া কষ্টকর! যা আমাদের বর্তমান ফেসবুকের সাথে তুলনা করলেই বুঝা যাবে! কোনটা গুজব আর কোনটা যে সত্য এতো মানুষের এতো এতো পোস্ট দেখে বোঝা দুষ্কর! যা অনেক ডিপ্রেসিং! এ বিষয়ে পরে আলোচনা করবো!
• এরপর আসে আমাদের অর্থাৎ মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য! প্রকৃতিকে বুঝা! প্রকৃতির রহস্য উদঘাটন করা! প্রকৃতির মাঝে থেকেই! ঠিক যেমন ওই লাইব্রেরীর রহস্য, সত্য বের করতে চাওয়া লাইব্রেরিয়ানদের মতো! বেঁচে থাকতে হলে জানতে হবে!
• প্রকৃতির রহস্য প্রকৃতিতেই নিহিত! শুধু খুঁজতে হবে! সেইই বই, যা ওই লাইব্রেরীর সমস্ত বই এর সূচিপত্র বা ইনডেক্স হিসেবে আছে! থিওরি অফ এভরিথিং! 😎
এখনকার মতো শেষ করবো! পরে এই লাইব্রেরীর বিশৃঙ্খল অবস্থা বিজ্ঞান এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে তুলনা করবো! বিশেষ করে ইন্টারনেট এর সাথে! 😃
*** চাইলে ওই গল্পের থিমকে সিমুলেট করে বানানো লাইব্রেরীটার ওয়েব ভার্সন ঘুরে আসতে পারেন!
লিংকঃ https://libraryofbabel.info/
* বেশি অপশন ডিপ্রেশনের কারণ_
Related Posts
চেতনা এবং অস্তিত্বের সংকট
শরীর যান্ত্রিক হওয়ার পর কি চেতনা অবশিষ্ট থাকে? প্রত্যয়ের গল্পের মাধ্যমে অস্তিত্বের গভীর প্রশ্নের অনুসন্ধান।
আপেক্ষিকতা ও কোয়ান্টাম তত্ত্বের বিরোধ
আপেক্ষিকতা এবং কোয়ান্টাম মেকানিক্সের একীকরণ সমস্যা এবং এদের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্যের আলোচনা।
প্রতিপদার্থ, সময়ের বিপরীতমুখীতা এবং আয়না মহাবিশ্ব
প্রতিপদার্থ, সময়ের বিপরীতমুখীতা এবং আয়না মহাবিশ্বের আলোচনা।