
লাইব্রেরী অফ বাবেল, ইন্টারনেট এবং এন্ট্রপি অফ ইনফরমেশন
জর্জ লুই বোর্গের গল্প 'লাইব্রেরী অফ বাবেল'-এর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে কীভাবে তথ্যের বিস্ফোরণ এবং সেগুলোর বিশৃঙ্খলার ফলে সঠিক তথ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই ব্লগ পোস্টে ইন্টারনেট এবং তথ্য প্রযুক্তির সাথে লাইব্রেরী অফ বাবেলের গল্পটির যোগসূত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
লাইব্রেরী অফ বাবেল বা ব্যাবিলনের লাইব্রেরী এমন একটা কল্পিত লাইব্রেরী যেখানে এযাবৎ কালের সব ধরণের বই এবং ভবিষ্যতে যতো বই লেখা হবে তাদের সংগ্রহ আছে কোনো না কোনোভাবে! কিন্তু বইগুলো খুঁজে পাওয়া দুষ্কর! কারণ সেগুলো অর্গানাইজ করা নাই এবং সেগুলো একে অপরের বিভিন্ন কম্বিনেশন অনুযায়ী আছে! ওই লাইব্রেরীর লাইব্রেরিয়ানরা এই বিষয়টা নিয়ে ডিপ্রেশনে ভোগেন এবং অনেকে আত্মহত্যাও করেন! আবার অনেকেই মনে করেন যেহেতু লাইব্রেরী তে ইউজফুল এবং ইউজলেস সবধরণের তথ্যই আছে তাই এমন কোনো বই নিশ্চই থাকবে যেটা সমস্ত বইয়ের সূচিপত্র বা ইনডেক্স হিসেবে লেখা!
এই বিষয়টার সাথে ইন্টারনেটের অনেক মিল আছে! ইন্টারনেট মূলত তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে! আশির দশকে যখন পাব্লিকলি ইন্টারনেটের প্রসার হয় তখন ইন্টারনেট ততোটা তথ্যসমৃদ্ধ ছিলোনা! কিন্তু দিন দিন তথ্যের প্রাচুর্য বেড়েই চললো! এর সাথে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়াও কষ্টকর হতে লাগলো! ৯০ এর দশকের শেষদিকে স্ট্যামফোর্ড এর দুই বন্ধু মিলে এই সমস্যা সমাধানের নিমিত্ত্বে কাজ করা শুরু করলেন! ফলাফল আজকের গুগল মামা! গুগলের মূল এলগরিদম এর নাম পেজর্যাংক! যা প্রথমদিকে একটা ইন্ডেক্সিং ইঞ্জিন হিসেবে ছিলো! এখন অনেক পরিবর্তন এসেছে!
এই ইন্ডেক্সিং ইঞ্জিন যা করতো তা হলো কিছু কিওয়ার্ডের বিপরীতে কিছু URL লিপিবদ্ধ করে রাখতো! কেউ যদি সেই কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করতো তবে গুগল সেই কিওয়ার্ডের বিপরীতে URL দিতো! - এটাই হলো Google in a nutshell!
কিন্তু লাইব্রেরী অফ বাবেলের ওই ইন্ডেক্স বুকের মতো গুগল সম্পুর্ণ নয়! গুগলে প্রতিদিন কিওয়ার্ড এবং URL যোগ হচ্ছে! ভালো তো! গুগল থেলে সব তথ্যই সহজে খুঁজে পাওয়া যাবে!😃 না! আমি ২০০৫ এ প্রথম ইন্টারনেটের সাথে পরিচিত হই! তখন কোনো কিওয়ার্ড দিয়ে গুগলে সার্চ করলে খুব সহজেই রিলেভেন্ট তথ্য খুঁজে পাওয়া যেতো প্রথম পেজেই! কিন্তু এখন এই ২০২০ সালে এসে কাহিনী কিন্তু আলাদা! এখন একটা কিওয়ার্ডের বিপরীতে অনেক তথ্য আসে যা থেকে সঠিক এবং কাম্য তথ্য টা পাওয়া অনেক কষ্টকর!
অর্থাৎ বলা যেতে পারে তথ্যেরও এন্ট্রপি (বিশৃঙ্খলার পরিমাপ) আছে! এবং তা তাপগতিবিদ্যার এন্ট্রপির মতোই সময়ের সাথে বেড়েই চলেছে! একসময় দেখা যাবে আর কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্যই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা ইন্টারনেট থেকে! এটাকে বলা যেতে পারে মহাবিশ্বের তথ্যীয় মৃত্যু!
• দেখা যায় কোনো গ্রুপ যখন তুলনামূলক ছোটো থাকে তখন গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় পোস্টগুলো অতিসহজেই খুঁজে পাওয়া যায়! কিন্তু গ্রুপ বড়ো হলে এবং পোস্ট সংখ্যা বেড়ে গেলে গুরুত্বপূর্ণ, প্রয়োজনীয় পোস্ট খুঁজে পাওয়া দিন দিন দুষ্কর হয়ে যায়! কিন্তু কিছুই করার নাই আসোলে! এটাই নিয়ম! Entropy increases over time!
